বুধবার, ৩ জুন, ২০১৫

প্রেসিডেন্ট মুরসী সম্পরকে দশটি তথ্য যা জানলে চমকে উঠবে যে কেউ।


ණ☛ মিশর রাস্ট্রের বর্তমান বিভাজনের যে দিকে আপনি দাড়িয়ে আছেন, তার উপর নির্ভর করে প্রেসিডেন্ট মুরসী আপনার কাছে হয় একজন বিশাল মাপের হিরো নয়তো এক দুর্ধর্ষ অপরাধী। তো আসলে কে এই প্রেসিডেন্ট মুরসী? আসুন জেনে নেই তার এমন দশটি তথ্য যা জানলে চমকে উঠবে যে কেউ।
১. প্রেসিডেন্ট মুরসী কুরআনে হাফিজ একথাটি অনেকেই জানেন না যে প্রেসিডেন্ট মুরসী সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্ত করেছেন। তার এই বিষয়টি নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবীদার।
২. তিনি বুদ্ধিমান অনেকেরই ধারনা মুরসী অত বুদ্ধিমান ছিলেন না। তার বিরোধীরা অনবরত তার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে তার বুদ্ধিমত্তার প্রতি প্রশ্ন তুলেছে। মুরসীর শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেকেরই অজানা। তিনি পিএইচডি ডিগ্রীধারী, এবং জাগাজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের প্রধান ছিলেন। তিনি আমেরিকাতে বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করেছেন এবং সেখানে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন।
৩. তিনি একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টে বাস করতেন মিশরের প্রেসিডেন্টদের জন্য বিভিন্ন বিলাসবহুল প্রাসাদ বরাদ্দ থাকলেও প্রেসিডেন্ট মুরসী তার জন্য বরাদ্দকৃত প্রাসাদে প্রথম ঢুকেই সিদ্ধান্ত নেন তিনি সেখানে থাকবেননা। তিনি তার অফিসিয়াল কাজকর্ম প্রাসাদ থেকে পরিচালনা করলেও, তার ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে বাস করতেন। বর্তমান মুসলিম অনেক নেতাদের টয়লেটও হয়তো এই প্রেসিডেন্টের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বড় ছিল।
৪. তিনি তার মরণাপন্ন বোনের চিকিতসার জন্য কোন বাড়তি সুযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানান প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময় মোহম্মদ মুরসীর বোন অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডাক্তাররা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাশ্চাত্যে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন, এবং মেডিকেলের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার ব্যবহার করার অনুমতি চান। কিন্তু মুরসী বলেন তিনি তার পরিবারের জন্য কোন বাড়তি সুবিধা নেবেন না। তার বোন সরকারী হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
৫. আজান তার বক্তৃতার আগে প্রাধান্য পেত একদিন অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ বক্তৃতা দেয়ার সময় তাকে জানানো হয় নামাজের সময় হয়েছে। তিনি বক্তৃতা বন্ধ করে জোরে আজানের পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন।
৬. একজন গৃহহারা মহিলার প্রতি তার দয়া একজন গৃহহারা বিধবা মহিলা রাস্তায় জীবন যাপন করতেন। একদিন একটি গাড়ি তার পাশে এসে থামে যার ভেতর থেকে মুরসী নেমে তাকে জিজ্ঞেস করেন কেন তিনি রাস্তায় শুয়ে আছেন। মহিলা তার দু:খের কথা খুলে বললে, তিনি আদেশ দেন মহিলাকে যেন সরকারী খরচে একটি বাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।
৭. স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দেশ-বিদেশ ভ্রমন মুরসী বিভিন্ন দান-অনুদান প্রকল্পে অংশগ্রহন করতেন। দক্ষিন এশিয়ার ভয়াবহ সুনামীর পর তিনি সাহায্য মিশনে সেখানে আর্তদের সহায়তায় ছুটে গিয়েছিলেন। বাশার আল আসাদ প্রেসিডেন্ট পদ প্রাপ্ত হওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানালে তিনি প্রতি উত্তরে তিনি জানান, ‘আপনাকে আমি সিরিয়াবাসীর প্রকৃত প্রতিনিধি মনে করিনা’। সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের হত্যাকান্ডের কারণে প্রোটোকল থাকা সত্ত্বেও তিনি তার প্রতি ভদ্রতা প্রকাশ করতে পারেন নি।
৮. দুনিয়ার সবচেয়ে কম বেতনপ্রাপ্ত নেতা বর্তমান বিশ্বে খেলোয়াড় কিংবা নায়ক নায়িকাদের আয় শুনলেই আমাদের অবাক লাগে, আমরা ধরেই নেই রাজনৈতিক নেতাদের বেতন হবে আকাশচুম্বী। কিন্তু মুরসী ছিলেন এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী। তিনি নির্ধারণ করেন তার বেতন সারা বছরে হবে ১০,০০০ ডলার। তাকে অপহরণ করার সময় জানা যায়, তিনি আসলে কোন বেতনই গ্রহন করেননি। তিনি পুরো সময় বিনামূল্যে দেশের জন্য কাজ করে গেছেন।
৯. তিনি নামাজের ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন তার বিরোধীরা প্রায়ই বলত, তার ধার্মিকতা একটি অভিনয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মুরসী নামাজ নিয়মিত পড়ার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। জুমার খুতবায় তাকে কাদতেও দেখা গেছে।
১০. অফিসে তার কোন ছবি নয় সারাবিশ্বে আমরা দেখি নেতা নেতৃদের ছবি দিয়ে দেয়াল ভরা থাকে। মুরসী নির্বাচিত হওয়ার পর পর তিনি আদেশ জারি করেন তার কোন ছবি সরকারী ভবনে ঝোলানো যাবেনা। বরং তিনি আল্লাহর নাম দিয়ে দেয়ালগুলো ভরার আদেশ দেন।
ණ☛ সত্য হলো যুদ্ধের প্রথম শিকার। এই দশটি পয়েন্টের চেয়ে সত্য আরো বেশী জটিল। মুরসীরও ভুল হয়েছে – তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন। কিন্তু তাকে ভালোবাসুন আর ঘৃণা করুন এই বিষয়গুলো হয়তো সত্যিকারের মানুষটিকে চিনতে সাহায্য করবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন